ব্যতিক্রম এক করোনা যুদ্ধা ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি।

করোনা ভাইরাস মহামারীতে যেখানে অনেক ডাক্তার প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ করেছেন, কেউ কেউ চেম্বারের সময় সীমিত করেছেন। সেখানে ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, তার প্রাইভেট চেম্বার সপ্তাহে তিন দিন থেকে বাড়িয়ে চার দিন করেছেন। শত প্রতিকূলতার মাঝেও কুমিল্লা শহর থেকে এসে তার নিজ গ্রামের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের কর্তাম গ্রামে সপ্তাহে নির্ধারিত চার দিন চেম্বার অব্যাহত রেখেছেন। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করেই নিয়মিত রুগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তরুণ এই চিকিৎসক। যে কেউই তার চেম্বারে গেলে অভিভূত হবেন এত সুন্দর নিয়ম শৃঙ্খলা দেখে। তার বাড়িতে প্রবেশ করলেই সবাইকে সাবান দিয়ে হাত ধৌত করার ব্যবস্থা রেখেছেন। চেম্বারের ভিতরে বাহিরে মুখে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছেন, মাস্ক ব্যাতিত কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। প্রত্যেক রোগী বাহিরে অপেক্ষমান জায়গায় পরস্পর থেকে ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রোগীরা চেম্বারে প্রবেশের ক্ষেত্রে যেন দরজায় বা হাতলে স্পর্শ করতে না হয় সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চেম্বারে একসাথে একজন রোগীর বেশি লোক প্রবেশ না করার নিয়ম রাখা হয়েছে। শিশু রোগীর ক্ষেত্রে একজন অভিভাবক প্রবেশ করতে পারছেন। প্রত্যেক রোগী দেখার পর রোগীর বসার স্থানটি জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে পরিস্কার করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবং প্রত্যেক রোগীকে যাওয়ার সময় নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে যেন তারা বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিধেয় কাপড় গুলো ধুয়ে ফেলে ও সাবান দিয়ে গোসল করে নেয়। এবং ডাক্তার নিজেও পিপিই (পারসোনাল প্রটেক্টিব ইকুইপমেন্ট) ব্যবহার করছেন। এভাবেই এই সংকটকালীন সময়েও প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ জন রোগীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন মানবিক এই ডাক্তার। ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি ২০১৬ সালে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস কোর্স সম্পুর্ন করেন। এরপর থেকেই নিজেকে চিকিৎসা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। তখন থেকেই ওনি প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার সম্পুর্ন বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এবং অন্যান্য দিনেও নাম মাত্র ভিজিট ফি নিলেও গরীব অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে সেবা প্রদান করছেন। তাছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই সংকটকালীন সময়ে সরাসরি রোগী দেখার পাশাপাশি মোবাইল ফোনে জনসাধারণকে ফ্রি টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও নিজ গ্রামের মসজিদে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতার জন্য বক্তব্য প্রদান ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।